× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
ASI couple arrested in case of physical abuse of domestic worker 
google_news print-icon

গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, এএসআই দম্পতি গ্রেপ্তার 

গৃহকর্মীকে-শারীরিক-নির্যাতনের-ঘটনায়-মামলা-এএসআই-দম্পতি-গ্রেপ্তার 
ছবি: সংগৃহীত

গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাশের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এতে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলাটি দায়ের করা হয়।

এরআগে গত বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মিলনের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তাদের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়

এর আগে বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে গৃহকর্মী মিলনকে মারধর করে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের স্ত্রী পপি মিত্র। তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছেক্যাও দেন তিনি।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন চন্দ্র দাশ। গত ৫ বছর যাবত সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছেন।

গত বুধবার (১৭ জুন) তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে অমানুষিক নিযাতন করা হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মী মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আনা হয়। বিকেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

রাতে গৃহকর্মী মিলনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তারা সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় আসেন এবং ভিকটিমের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, খুলনায় গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র সারদেশে আলোচনায় স্থান পায় এবং বিষয়টি দেখে মেয়েটি মা খুলনায় আসার উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও জানান, বুধবার (১৭ জুন) থেকে পুলিশ দম্পত্তি গৃহকর্মী সম্পর্কে আমাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে থাকে। থানায় মামলা হয়েছে। তাদের দু’জনকে দুপুরের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, তারা দু জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরণের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Advocacy dialogue held at Pirojpur to prevent violence against women

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পিরোজপুরে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে পিরোজপুরে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে একটি ‘অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে গত বুধবার (১৭ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারীরা যাতে দ্রুত আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সেজন্য সরকারি হেল্পলাইন নম্বর—১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাক জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক উর্মি ভাদুড়ীর সঞ্চালনায় এবং ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কোর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ডায়ালগটিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ,সাব ইন্সপেক্টর রাশিদা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Partner Congress on Smart Agriculture and Safe Food Production held at Nilphamari

নীলফামারীতে স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মণ্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন।

এসময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে।

শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ, মরিচ বীজ, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The economy of Thakurgaon can change if the investment in dairy industry increases

দুগ্ধ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে বদলে যেতে পারে ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনীতি

* নারীদের হাত ধরে এগোচ্ছে দুগ্ধ খামার * শিল্পনগরী ঘিরে নতুন আশায় খামারিরা * বাজার সংকটে ক্ষতির মুখে দুধ উৎপাদকরা
দুগ্ধ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে বদলে যেতে পারে ঠাকুরগাঁওয়ের অর্থনীতি ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে এখনো বড় পরিসরে দুগ্ধ শিল্প গড়ে না উঠলেও স্থানীয় পর্যায়ে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনে পিছিয়ে নেই এ জেলা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পুরুষের পাশাপাশি দুগ্ধ খামার গড়ে তুলছে নারীরা। গবাদিপশু পালনে পারদর্শী হাজারো নারী-পুরুষ-যুবক। গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে প্রস্তুত তারা। প্রয়োজন শুধু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত বিনিয়োগ আর দুধের নিশ্চিত বাজার।

একসময় দেশের গম উৎপাদনের শীর্ষ জেলা ছিলো ঠাকুরগাঁও। কিন্তু সময় বদলেছে। গমের মাঠ এখন দখল করেছে ভুট্টা। ভুট্টা মানেই সহজ পশুখাদ্য। ঘাস ও খড়ের পাশাপাশি ভুট্টা থেকে উৎপাদিত সাইলেজ গরু পালন আরও সহজ করে তুলছে।

জেলার গ্রামগুলোতে এখন বাড়ছে ছোট-বড় গরুর খামার। অনেক পরিবার কৃষির পাশাপাশি বেছে নিচ্ছে দুগ্ধ খামারকে। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা হয়ে উঠছেন এই পরিবর্তনের মূল শক্তি।

গৃহস্থালির কাজ সামলিয়ে, গরু পালন করে, দুধ উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে নারীরা। সেই দুধ পরিবারের প্রধানগণ বাজারে বিক্রি করতে আনেন। কিন্তু এত শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত দুধের বাজার না পাওয়ায় হতাশ হন দুধ উৎপাদন কারীরা। কখনো কখনো দুধ অবিক্রিত থেকে যায়।

সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের নারী খামারি ও উদ্যোক্তা মাসুমা আক্তার বলেন, ছোট পরিসরে শুরু করেছিলাম গবাদি পশুর খামার। এখন ৭ টি গরু আছে। ভালো দুধ উৎপাদন করি। কিন্তু দুধ কখনো বিক্রি হয় কখনো হয়না। আমাদের এখানে ভালো কারখানা হলে আমরা দুধ দিতে পারবো।

খামারি রফবকুল ইসলাম বলেন, এত এত শ্রম দিয়ে দুধ পানির দামে বিক্রি করতে হয়। আমাদের এখানে এমন একটি কারখানা বা কোম্পানি নেই যারা ন্যায্য মূল্যে আমাদের থেকে দুধ নিবে।

শুধু তরল দুধ নয়—ঠাকুরগাঁওয়ে দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগর রয়েছে। যারা দুধ থেকে তৈরি করছে পনির, চিজ, ঘি, দই, মিষ্টিসহ নানা ধরনের খাবার। ছোট পরিসরে স্থানীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় জেলাতে দুগ্ধজাত খাবারের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই জেলায় দুগ্ধজাত খাবারের সম্ভাবনাকে আরাও তরান্বিত করতে বিনিয়োগ বাড়ালে এ অঞ্চলে খুলতে পারে নতুন অর্থনীতির সমৃদ্ধির দার।

খামারিদের প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওয়ে যেহেতু বড় পরিসরে খাদ্য পক্রিয়াজাত করণ শিল্পনগরীর জন্য ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করছে সরকার। নিশ্চয় দেশের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা কারখানা নির্মানে এখানে বিনিয়োগ করবে, জেলাতে উন্নতমানের দুগ্ধজাত খাবারের কারখানা তৈরি হবে খামারি আরও বাড়বে। নারীরা আরও গরুপালনে উৎসাহী হবে। বেকারত্ব কমে আসবে।

জেলার জেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ঠাকুরগাঁও, ডা: ইজহার আহমেদ খান বলেন, কৃষি প্রধান জেলা হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে গাভী পালনে সহজে করা যায় এবং প্রচুর দুধ উৎপাদন হয়। এ জেলায় নিবন্ধিত অনিবন্ধিত প্রায় তিন হাজার খামার রয়েছে। যা থেকে প্রতিমাসে ৬০ হাজার মে:টন দুধ উৎপাদন হয়। দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনের জন্য এখানে কারখানা গড়ে উঠার ব্যপক সম্ভাবনা দেখছেন এই প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।

উন্নত জাতের গাভী, সহজ ঋণ এবং দুধের বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে নতুন অর্থনীতির দুয়ার খুলতে পারে এই জেলা। ধান-গম ও ভুট্টার পরে যেন এবার সাদা বিপ্লবের প্রতিক্ষায় উত্তর জনপদের এ অঞ্চল।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inauguration of three day national fruit and mango fair in Naogaon

নওগাঁয় তিনদিন ব্যাপী জাতীয় ফল ও আম মেলার উদ্বোধন

নওগাঁয় তিনদিন ব্যাপী জাতীয় ফল ও আম মেলার উদ্বোধন ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় তিনদিন ব্যাপী জাতীয় ফল ও আম মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে মেলায় প্রায় ১০টি স্টলে শতাধিক বিভিন্ন জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়।

পরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন।

এসময় সিভিল সার্জন ডা: আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মেহেদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিষ্ণু পদ সাহাসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাসহ কৃষক ও কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ফল সবার কাছে পরিচিত করা এবং পাশাপাশি উন্নত জাতের ফল চাষাবাদে কৃষকরা উপকৃত হবে। মেলায় হর্টিকালচার থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের চারা ও আচার প্রদর্শন করা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
As promised the government will improve the countrys communication system State Minister Habib

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব ছবি: সংগৃহীত

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কায়েতপাড়া ও নগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই সেতু।

‎একটি মহল এই সেতুর কাজটি বন্ধ করে রেখেছেন যাতে করে রূপগঞ্জের উন্নয়ন না হয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার । তিনি চান সারা বাংলাদেশের যেন উন্নয়ন হয়। সেজন্য এই এলাকায় আসা আমাদের। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে দাবি এই ব্রিজটি কাজ সম্পন্ন করা।‎সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, সেতু দুটি চালু হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও ব্যয়। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এবং ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে আমরা অল্প সময়ে আসতে পারবো। এখন ঢাকা থেকে সিলেট যাবে এই নগরপাড়ার সেতু ব্যবহার করে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, এড গোলজার হোসেন, মামুন মিয়া, ফরিদ াহমেদ যুবরাজ, আওলাদ, শিপলু জাহানসহ আরো অনেকে।

পরে প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে উপকার ভোগীদের মাঝে ভ্যান ও ছাগল বিতরণ করেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Will not allow peoples money to be laundered Prime Minister

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’

দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সাথে সকলে আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা-শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সে জন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সে জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’

বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে যখন দেশের জনগণ যখন ফুঁসে উঠেছিল গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য, তখন অনেক বড় রাজনৈতিক নেতারা এ দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া দেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিল বাংলাদেশই হচ্ছে আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটাই কাজ বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। এই দেশে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই আমরা এই বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’

বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জন্য আজকে একটা খুব আনন্দের দিন। কেন জানেন? আজকে থেকে কয়েক মাস আগে যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয়, আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনই সিলেটের জনসভা মঞ্চ থেকে বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আমরা আমাদের চা-বাগানে শ্রমিক হিসেবে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেব।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া জানাই, লক্ষ শুকরিয়া জানাই যে, আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। আমার সরকার আজকে চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা নারীশ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছে।’

আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল নারীশ্রমিকের কাছে, চা-বাগানের সকলের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সে জন্য পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদের সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘সে জন্যই নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটির মতো পরিবার রয়েছে। আমরা বলেছিলাম, আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, বিশেষ করে নারীপ্রধানদের কাছে। আমরা নির্বাচন হওয়ার সাথে সাথে এক মাসেরও কম সময়ের ভেতরে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলাম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি চা-বাগানের নারীশ্রমিকদের ঘর প্রদানের জন্য ২ লাখ টাকা করে দিয়েছি। এখানে স্টেজের মধ্যে তিনজনের হাতে সেই ২ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি আর প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদের কাছে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই টাকা পৌঁছে দেব।’

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে একটাই করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ সবার জন্য বাংলাদেশ।’ বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা-শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা-শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের মধ্যে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম বক্তব্য রাখেন। ২০ বছরের অধিক সময় পরে তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে আসলেন।

একই দিনে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না, দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগণের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়ে গেলাম।’ এই অনুষ্ঠান থেকে সারাদেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা মানুষের ভোট, ভাত ও কথা বলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের পর বাংলাদেশ এখন এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং বীর শহীদদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট দেশের মানুষ বুক টান করে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী শাসনকে চিরতরে বিদায় করেছে। স্বৈরাচারের সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় পেরিয়ে দেশের মানুষ এখন চায় স্থিতিশীলতা, শান্তি, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার সমান সুযোগ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগণকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।’

দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লেখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজ আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে পারছি।’

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায়।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্র হয়ে যারা আন্দোলন খেলা করেছিল, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগণের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। আমরা জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিল? ৮৬ সালে কী করেছিল? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

মন্তব্য

p
উপরে